১৯৬৬ সালের পর এতটা সাফল্য আর কখনো দেখা যায়নি ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযানে। শিরোপা জিততে না পারলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। ৬০ বছরের মধ্যে এটিই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা অর্জন, যা ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশা জাগাচ্ছে দেশটির ফুটবলে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে দুবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দুবারই হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। ১৯৯০ সালে ইতালির কাছে ২-১ গোলে হারের পর ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল তারা। ফলে তৃতীয় স্থান অর্জনের স্বপ্ন এতদিন অধরাই ছিল।
অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচল ২০২৬ বিশ্বকাপে। ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৬-৪ গোলের জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে ২-১ গোলের হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পর এই জয় ছিল থমাস টুখেলের দলের জন্য দারুণ এক প্রত্যাবর্তন। সেই ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে দুই গোল হজম করে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল ইংলিশদের। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ফ্রান্সকে চাপে ফেলে দেয় তারা।
যদিও দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে ফ্রান্স দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে এবং ব্যবধান কমিয়ে এক গোলে নিয়ে এসেছিল, শেষ পর্যন্ত বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক, ডেকলান রাইস, এজরি কনসা ও বদলি নেমে জুদ বেলিংহামের দুর্দান্ত গোল ইংল্যান্ডকে স্মরণীয় জয় এনে দেয়।
এই সাফল্য অবশ্য ইংল্যান্ডের দীর্ঘ বিশ্বকাপ শিরোপা খরা কাটাতে পারেনি। ১৯৬৬ সালের পর এখনও দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাদের। তবে বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে সেমিফাইনালে ওঠা এবং এবার প্রথমবারের মতো তৃতীয় স্থান অর্জন ইংলিশ ফুটবলের জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা হয়ে থাকবে।
১৯৬৬ থেকে ২০২৬- এই দীর্ঘ ৬০ বছরে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ অর্জন ছিল চতুর্থ স্থান। ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে সেই অবস্থানেই শেষ করতে হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে অবশেষে সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে ইতিহাসের প্রথম ব্রোঞ্জ পদক জিতে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল থ্রি লায়ন্সরা।