ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত রায়ান ক্রোকার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে শাসন পরিবর্তন ঘটানোর সম্ভাবনা খুবই কম। বরং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ইরানের অভ্যন্তরীণ অবস্থাকে দুর্বল করার পরিবর্তে দেশটির শাসকগোষ্ঠীকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ক্রোকার বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থানে ছিল, এখন তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
১৯৮৩ সালে লেবাননের বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এই কূটনীতিক বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা।
তিনি মনে করেন, এ লক্ষ্য অর্জনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ—এই তিনটি বিষয় সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
রায়ান ক্রোকার বলেন, এই মুহূর্তে ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী একটি লক্ষ্য হবে। এর পরিবর্তে যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশলগত অবস্থানে ছিল, তা পুনরুদ্ধার করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ইরানিরা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলার কৌশল জানে। যুদ্ধের কারণে দেশটির নেতৃত্ব আরও কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তাই শুধু বোমা হামলার মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয়।
তথ্যসূত্র: সিএনএন