প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রথম সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ দেশের ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতারা পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির আইনগত মালিকানা নিশ্চিতকরণ, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণসুবিধা এবং বিভিন্ন প্রকল্প ও রিজার্ভ ফরেস্টের নামে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনেন এবং সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যেখানে কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না। সবার অংশগ্রহণে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে অর্থ পাচার না হলে আপনাদের অনেক সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব হতো।”
তিনি আরও বলেন, সরকার ধাপে ধাপে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেখতে হবে, আমরা আরও ভালো অবস্থানে কীভাবে থাকতে পারি।”
তিনি বলেন, দেশে এখনো বহু সমস্যা রয়ে গেছে, যা গত ১৭ বছরে সমাধান হওয়ার কথা ছিল। উন্নয়নের যে গল্প শোনা যেত, বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। এখন সব চাপ বর্তমান সরকারের ওপর এসেছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অবনতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের সরকার একটি প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন ৩১ শয্যার হাসপাতাল দিয়ে। পরে বিএনপি সরকারের সময় তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমান সরকার সেটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ছাড়া ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সচল না থাকার বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আরোপিত কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।