সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সুপারিশের ভিত্তিতে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। তবে গেজেট প্রকাশের সময় যাই হোক না কেন, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে সচিব কমিটি কারিগরি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল কত ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইনি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিললে গেজেট জারি করা হবে।
সূত্র জানায়, শুরুতে তিন ধাপে এবং পরে দুই ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তাব ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মন্ত্রিসভার ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে, যা সরকারের অর্থায়ন সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আসছে। তাই কোনো ধরনের বৈষম্য বা অসন্তোষ এড়াতে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন পে স্কেলে শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব রয়েছে। এসব কার্যকর করতে একাধিক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে অর্থ বিভাগ।
তথ্যসূত্র: সমকাল