নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৪ মিনিটে তে আনাউ এলাকার কাছে ৫১ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন এই ভূমিকম্পের প্রাথমিক মাত্রা ৬.৩ রেকর্ড করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫.৯ নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (নেমা) একটি সুনামি সতর্কতা জারি করে। সাউথ আইল্যান্ডের মিলফোর্ড সাউন্ড থেকে পুইসেগুর পয়েন্ট পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলের বাসিন্দাদের আকস্মিক প্লাবনের আশঙ্কায় অবিলম্বে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে কাছের কোনও উঁচু স্থানে বা যত দ্রুত সম্ভব ভেতরের দিকে চলে যেতে হবে। কিছু এলাকায় হয়তো কম্পন অনুভূত হয়নি, তা সত্ত্বেও ক্ষয়ক্ষতি ছড়াতে পারে এমন সুনামির আশঙ্কায় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া জরুরি। সিভিল ডিফেন্স থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরবেন না। যানজট এড়াতে সম্ভব হলে হেঁটে, দৌড়ে কিংবা সাইকেলে যাতায়াত করুন। সুনামির প্রথম ঢেউটিই যে সবচেয়ে বড় হবে এমন নয়; এই দুর্যোগ কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে এবং সতর্কতা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বিপদ কাটবে না।
ভূমিকম্পের সংশোধিত মাত্রা কম হওয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই সুনামি সতর্কতা তুলে নিয়ে সেটিকে সাধারণ পরামর্শ (অ্যাডভাইজরি) হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং উপকূলীয় প্লাবনের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের ৫১ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি হওয়ায় কোনও হতাহত বা বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতা কমিয়ে আনা হলেও মিলফোর্ড সাউন্ড থেকে পুইসেগুর পয়েন্ট পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলের বাসিন্দাদের তীব্র ও অস্বাভাবিক সামুদ্রিক স্রোত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত জলোচ্ছ্বাসের বিষয়ে সতর্ক করেছে নেমা। মূল ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় ৩.৩ থেকে ৪.৩ মাত্রার বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। সূত্র: উইয়ন নিউজ