ট্রাফিক স্টপে অভিবাসীদের তল্লাশি ও আটকের নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

কৌশলী ইমা, নিউ ইয়র্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে ট্রাফিক স্টপ (যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি) অব্যাহত রাখতে হবে।এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন

2026-07-16T11:06:37+00:00
2026-07-16T11:06:37+00:00
  শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬,
২ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পূর্বের স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল
ট্রাফিক স্টপে অভিবাসীদের তল্লাশি ও আটকের নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প
কৌশলী ইমা, নিউ ইয়র্ক
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে ট্রাফিক স্টপ (যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি) অব্যাহত রাখতে হবে। 

এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর সাম্প্রতিক সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন, যেখানে কর্মকর্তাদের চলন্ত গাড়ি থামিয়ে অভিবাসীদের আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, আমাদের শক্ত, কঠোর ও বিচক্ষণ হতে হবে। আইসিইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর অপরাধ দমন পদ্ধতিগুলোর একটি—ট্রাফিক স্টপ—আমরা কোনোভাবেই পরিত্যাগ করতে পারি না। এটি বন্ধ করলে আমরা অপরাধীদেরই সুবিধা করে দেব।

তিনি আইসিই কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, বিচক্ষণ, ন্যায়সঙ্গত ও স্মার্টভাবে কাজ করুন এবং আপনাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে যান।

তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সচিব মার্কওয়েন মুলিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমাদের এক নম্বর লক্ষ্য হলো আমাদের কর্মকর্তাদের নিরাপদ রাখা এবং অপরাধীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া। যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে গ্রেপ্তার করে বহিষ্কার করা হবে। আপনি যদি অবৈধভাবে এখানে থাকেন, এখনই দেশ ছেড়ে চলে যান।

হোয়াইট হাউস ও ডিএইচএস এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এর আগে চলতি সপ্তাহে আইসিই নেতৃত্ব কর্মকর্তাদের চলন্ত যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ না করার নির্দেশ দিয়েছিল বলে বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্ত আসে মেইন অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর বিডেফোর্ডে এক অভিযানে ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হওয়ার পর। ডিএইচএস জানায়, চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করতে কর্মকর্তারা একটি বাসভবনে অভিযান চালাচ্ছিলেন। সেখান থেকে একটি গাড়ি বেরিয়ে যাওয়ার সময় সেটি থামানোর চেষ্টা করা হলে, একজন কর্মকর্তা “জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে” মনে করে গুলি চালান।

এরও এক সপ্তাহ আগে টেক্সাসের হিউস্টনে আরেকটি অভিবাসন অভিযানে একজন ব্যক্তি নিহত হন। ডিএইচএস প্রথমে দাবি করেছিল, ওই ব্যক্তি তার গাড়িকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থে একজন কর্মকর্তা গুলি চালিয়েছিলেন। তবে মেইন ও টেক্সাসের আইনপ্রণেতারা বলেছেন, নিহত দুজনের কেউই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না।

অভিবাসন কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার অভিযানে ট্রাফিক স্টপ দীর্ঘদিন ধরেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলোর একটি।

মেইনের ঘটনার পর ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন সিনেটর সুসান কলিন্সের সঙ্গে কথা বলেন এবং ট্রাফিক স্টপ সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি আলোচনা করেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ডেমোক্র্যাটদের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে মেইনকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং কলিন্স সেখানে পুনর্নির্বাচনের মুখোমুখি।

সাম্প্রতিক দুটি প্রাণঘাতী অভিযানের পর ডিএইচএসের অভিবাসন প্রয়োগ নীতি আবারও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মিনেসোটায় পৃথক ঘটনায় দুই মার্কিন নাগরিক—অ্যালেক্স প্রেটি ও রেনি গুড—ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক জনসমালোচনার জন্ম দেয়।

নিজের নিশ্চিতকরণ শুনানিতে মার্কওয়েন মুলিন বলেছিলেন, তিনি ডিএইচএসকে বিতর্কের শিরোনাম থেকে দূরে রাখতে চান। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের গণহারে অভিবাসী বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সংস্থাটির ওপর গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোরও চাপ রয়েছে।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: