ইরানের বিভিন্ন বন্দরে ফের নৌ-অবরোধ আরোপের পর দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বুধবারের (১৫ জুলাই) এই হামলায় ইরানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর জবাবে ওই অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সর্বশেষ দফার হামলা সম্পন্ন করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলার সক্ষমতা কমানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, টানা ৯০ মিনিটের এই অভিযানে বৃহত্তর তুনব দ্বীপের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানি বাহিনী যে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেছে, তা ধ্বংস করাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
তবে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। একই সময়ে ইরানের গণমাধ্যমেও তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এবং ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের ডজনখানেক সামরিক স্থাপনায় টানা সাত ঘণ্টা হামলা চালানো হয়েছে।
এর জবাবে বুধবার ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানসহ ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় প্রায় এক ডজন ক্রু সদস্য নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত পরবর্তীতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বুধবারও তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। গত মাসে সংঘাত নিরসনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তবে নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় সেই প্রচেষ্টা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি