বিশ্বজুড়ে এল নিনো আতঙ্ক, বাংলাদেশসহ ৬ দেশে দুর্যোগের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে আবারও এল নিনোর প্রভাব নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এ আবহাওয়াগত ঘটনাটি মিলিত হয়ে বাংলাদেশসহ ছয়টি

2026-07-14T10:13:05+00:00
2026-07-14T10:13:05+00:00
  বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বিশ্বজুড়ে এল নিনো আতঙ্ক, বাংলাদেশসহ ৬ দেশে দুর্যোগের আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বজুড়ে আবারও এল নিনোর প্রভাব নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এ আবহাওয়াগত ঘটনাটি মিলিত হয়ে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশে বন্যা, খরা এবং খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর রেকর্ড শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ বন্যা, খরা, রোগব্যাধির বিস্তার এবং খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। 

সংস্থাটির মতে, কেনিয়া, উগান্ডা, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। 

এসব দেশের অনেকগুলোই ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত ও মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত।

আইআরসির জরুরি কার্যক্রম বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বব কিচেন বলেন, একের পর এক সংকট একসঙ্গে আঘাত হানছে। অথচ যেসব দেশের এসব দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা সবচেয়ে কম, তারাই এবার সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার (সিপিসি) জানিয়েছে, এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ৮১ শতাংশ। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।

এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বলেছে, এল নিনো পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে এটি আরও শক্তিশালী হবে। জলবায়ু বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সুইনের ভাষায়, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা এ সময়ের জন্য ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যার প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রার একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন, যা সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর ঘটে। এর ফলে বিশ্বের কোথাও অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও খরা দেখা দেয়।

পূর্ব আফ্রিকায় এল নিনোর কারণে বছরের শেষ দিকে সাধারণত ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এবার ভারত মহাসাগরের উষ্ণ পানির প্রভাবও এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে এ বছরই কয়েক দফা ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আগাম সতর্কীকরণ সংস্থা এফইডব্লিউএস নেট জানিয়েছে, বছরের শেষ দিকে যদি ১৯৯৭ বা ২০২৩ সালের মতো বড় বন্যা হয়, তাহলে দক্ষিণ সোমালিয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষিজমি ডুবে যেতে পারে এবং লাখো মানুষ ঘরছাড়া হতে পারেন।

কেনিয়ার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরজুড়ে এল নিনো অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটি ইতোমধ্যে জাতীয় প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করেছে।

বাংলাদেশেও এর প্রভাবের আভাস মিলছে। জুলাইয়ের শুরু থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সংকটে পড়েছে লাখো মানুষ।

পাকিস্তানে পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশটির অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের কারণে খরার আশঙ্কা থাকলেও উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ গলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, এল নিনো পুরোপুরি শক্তিশালী হলে দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধানের উৎপাদন ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হবে এবং কোটি কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি ও সারের বৈশ্বিক সরবরাহেও চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে সারের দাম আরও বাড়তে পারে, যা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যের দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

এ পরিস্থিতিতে আইআরসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা দাতা দেশগুলোর প্রতি আগাম অর্থায়ন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

তাদের মতে, দুর্যোগ আঘাত হানার পর ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সূত্র: আল জাজিরার প্রতিবেদন অবলম্বনে।


  বিষয়:   জলবায়ু পরিবর্তন  বাংলাদেশ  বন্যা  খরা  ঝুঁকি  ভয়াবহ বন্যা  আইআরসি 


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: