হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন একটি বিল আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান এব্রাহিম আজিজি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ইরান তার ‘রেড লাইন’ রক্ষায় অনড় এবং প্রয়োজন হলে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আজিজি জানান, ‘হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা এবং টেকসই অগ্রগতির জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ’ শীর্ষক বিলটি আগের রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনাসহ আমাদের সব রেড লাইন রক্ষায় আমরা দৃঢ় অবস্থানে আছি। এটি কেবল প্রথম পদক্ষেপ, এর পর আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমন সময় বিলটি উত্থাপন করা হলো, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হরমুজ প্রণালির ওমান অংশে বিকল্প নৌপথ তৈরির উদ্যোগের জবাবে গত সপ্তাহে পরপর তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় ইরান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর গত রোববার (১২ জুলাই) হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় তেহরান।
পরদিন সোমবার (১৩ জুলাই) সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে। মার্কিন বাহিনী জানায়, তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করে। ফলে গত মাসের মাঝামাঝি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
এদিকে সোমবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে এবং নিরাপদে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হবে।
পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যেই ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করব। সম্ভবত এটি পরিচালনাও করব। আমরা প্রণালির অভিভাবক হব। এর জন্য আমাদের অর্থ দেওয়া উচিত।’
এর কিছুক্ষণ পর নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আবারও অবরোধ কার্যকর করছে।
ট্রাম্প লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালির অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিত হবে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ব্যয় হবে, তা মেটাতে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হবে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তাঁর ভাষ্য, ‘চুক্তি হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু তারা তা ভেঙেছে। তারা সব সময় চুক্তি ভাঙে। তাদের সঙ্গে আমাদের ১০টি চুক্তি হয়েছে। তাই এবার আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালাব।’
তবে ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা বা তাদের বাহিনীকে রসদ সরবরাহ ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।