মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনিও ‘৯০ শতাংশ শেষ’ হয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চার মাস আগের ইরান আর এখনকার ইরান এক নয়; দেশটিকে অনেকটাই ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও রাডার ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তার দাবি, দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের অধিকাংশই নিহত হয়েছেন এবং অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৮৪ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের ২০০টি যুদ্ধবিমান ছিল, এখন সবই ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের সেই সামরিক সক্ষমতা আর নেই।’ এ সময় তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মোজতবা আলী খামেনিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তার ছেলে (মোজতবা) ৯০ শতাংশ শেষ।’
মোজতবা খামেনিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তিনি আহত হন এবং একই হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে।
এদিকে কয়েক দিনের যুদ্ধবিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্য দেশের জাহাজ থেকে অর্থ আদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এর জবাবে ইরান বাহরাইনের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত সংযুক্ত আরব আমিরাত-সংশ্লিষ্ট দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হন।
ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।