যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, দক্ষিণ উপকূলে মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক হামলার প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান এই পাল্টা জবাব দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে অচলাবস্থা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই পথে স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু হবে না যতক্ষণ না অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরে আসে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কালাস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে আগের মতো অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে জরুরি আলোচনা করবেন ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
ইরানে মার্কিন হামলায় হতাহতের দাবি
ইরানের ইসফাহান প্রদেশের নাইন শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
এর আগে মাহশহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে মার্কিন হামলায় আরও একজন নিহত এবং চারজন আহত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে ইরানি গণমাধ্যম।
খামেনি হত্যার বিচার নিয়ে ইরানের অবস্থান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার বিচারকে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সব সুযোগ ব্যবহার করবে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান বরাবরই নিজেদের প্রতিশ্রুতি মেনে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে ইরানও আর চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য থাকবে না।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ফ্রান্সের সতর্কতা
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল বারোট জানিয়েছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে সামরিক তৎপরতা
কাতারের দোহা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) কয়েকটি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত রাত থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
বাহরাইন: তিন দফা হামলার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কুয়েত: দেশটির সেনাবাহিনী আকাশে শনাক্ত হওয়া ‘শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু’ ধ্বংসের কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জর্ডান: সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইরান থেকে আসা অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে জর্ডান। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে অঞ্চলজুড়ে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও গভীর হচ্ছে।