২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের লড়াই যেমন তুঙ্গে, তেমনি জমে উঠেছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের প্রতিযোগিতাও। অনেকের ধারণা, শুধুমাত্র ফাইনালের পারফরম্যান্সই এই পুরস্কারের ভাগ্য নির্ধারণ করে। তবে বাস্তবে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের হিসাবের সঙ্গে যোগ হয়।
ফলে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ফুটবলারদের সামনেও সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ থেকে যায়। এ কারণে শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের তারকারাও এখনো গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রয়েছেন।
বর্তমান অবস্থায় আটটি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে সমান গোল হলেও বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় টাইব্রেকারে এগিয়ে আছেন মেসি। সাত গোল করে তাদের পেছনে আছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই নরওয়ে বিদায় নেওয়ায় তার আর গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ নেই।
এদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম ছয়টি করে গোল করেছেন। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবাল করেছেন পাঁচটি করে গোল। ফলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল—দুই ম্যাচই গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ইতিহাসে সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী এই ম্যাচে গোল করেছেন। তাদের মধ্যে ২০১০ সালে থমাস মুলার, ১৯৯৮ সালে ডাভর সুকের, ১৯৯০ সালে সালভাতোরে শিলাচি এবং ১৯৩৮ সালে লিওনিদাস তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার নিশ্চিত করেছিলেন।
অন্যদিকে গ্রেজগর্জ লাতো, ইউসেবিও ও জ্যঁ ফন্তেইনও এই ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও তাদের ক্ষেত্রে ওই গোল ছাড়াও গোল্ডেন বুট জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবধান ছিল।
ফলে এবারের বিশ্বকাপেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু সান্ত্বনার লড়াই নয়, গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।