অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়ে লিওনেল মেসিদের ফাইনাল নিশ্চিত হতেই আনন্দে ফেটে পড়েন দেশের লাখো সমর্থক। রাজধানী বুয়েনস আইরেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন শহরে শুরু হয় বিজয় উৎসব। তবে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী উদযাপনের সাক্ষী থাকে পাতাগোনিয়ার নিউকুয়েন প্রদেশের কুত্রাল কো শহর, যেখানে ৮৫ ফুট উঁচু লিওনেল মেসির বিশাল মূর্তির পাদদেশে হাজারো মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখে বিজয় উদযাপন করেন।
ম্যাচে এক গোল পিছিয়ে পড়ার পরও শেষ দিকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ বাঁশি বাজতেই মেসির মূর্তির সামনে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। নীল-সাদা পতাকা হাতে সমর্থকদের স্লোগান, গান আর আতশবাজিতে উৎসবের রূপ নেয় পুরো এলাকা।
আগামী রবিবার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখন হাতছানি দিচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
কুত্রাল কো শহরের ৩২ বছর বয়সী বাসিন্দা লুকাস রোমেরো বলেন, এটি ছিল দারুণ কঠিন একটি ম্যাচ। কিন্তু এই জয় এবং মেসির সম্মানে নির্মিত মূর্তিটি আমাদের গর্বের প্রতীক।
স্থানীয় ভাস্কর আলদো বেরোইসার নির্মিত ২৬ মিটার (৮৫ ফুট) উঁচু মেসির মূর্তিটি চলতি বছরের জুনে উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মেসির ভাস্কর্য হিসেবে পরিচিত। ম্যাচ শেষে মূর্তির চারপাশে আতশবাজির ঝলক আর সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই বরাবরই ফুটবলের সীমা ছাড়িয়ে ইতিহাস ও আবেগের প্রতীক। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের বিতর্ক, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার কিংবদন্তি ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল—সব মিলিয়ে এই ম্যাচ ঘিরে দুই দেশের সমর্থকদের আবেগ ছিল তুঙ্গে।
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়ারুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই আলাদা অনুভূতি। এটি মালভিনাসের লড়াই, এটি ডিয়েগোর লড়াই, আর এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপের গল্প।
অন্যদিকে, বুয়েনস আইরেসে ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রবীণ যোদ্ধাদের সঙ্গে ম্যাচ উপভোগ করা ৭৪ বছর বয়সী হুয়ান কার্লোস সালিনাস বলেন, এই জয় শুধু ফুটবলের জয় নয়, এটি আমাদের স্মৃতি, আবেগ ও জাতীয় গর্বেরও জয়।