বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। ম্যাচজুড়ে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট, রক্ষণে এক মুহূর্তের অসতর্কতা এবং কৌশলগত একটি বড় ভুলই কাল হয়ে দাঁড়ায় থ্রি লায়ন্সদের জন্য। সেই ভুলেরই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের বেদনায় আগেও পুড়েছে ইংল্যান্ড। তবে এবারের হার সম্ভবত অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক।
ফিরে তাকানো যায় ১৯৯০ বিশ্বকাপে। সেবার পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংলিশদের। তবে সেই ম্যাচে আন্ডারডগ বা ফেবারিট না হয়েও বেশির ভাগ সময় প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়েছিল তারা, ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে এনেছিল সমতাও।
২০১৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সিংহভাগ সময় এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। যে টুর্নামেন্টে তাদের নিয়ে তেমন কোনো প্রত্যাশাই ছিল না, সেখানে ৬৭ মিনিটের পর ২ গোল হজম করে ছিটকে যেতে হয় তাদের।
আর আটলান্টায় গতকাল রাতে? ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা এবং মাঠে স্পষ্টভাবেই শ্রেয়তর দল হিসেবে খেলার পরও শেষ দিকে দুই গোল হজম করে হেরেছে ইংল্যান্ড।
‘আমরা সত্যিই অনন্য’—বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে স্কালোনি
আর্জেন্টিনার শারীরিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল সামলে ইংল্যান্ড কেবল এগিয়েই ছিল না, রক্ষণেও ছিল বেশ জমাট। এর বিপরীতে আর্জেন্টিনাকে দেখাচ্ছিল বড্ড সাধারণ।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ‘হাইড্রেশন ব্রেকে’র পর ইংল্যান্ড কৌশল বদলে রক্ষণাত্মক ৫-৪-১ ফরমেশনে খেলতে শুরু করে। এতে তারা আর্জেন্টিনাকে উল্টো আক্রমণের আমন্ত্রণ জানায়, আর আর্জেন্টিনা সুযোগটা লুফে নেয় একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে। ফলে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি ঘুরে যায় আর্জেন্টিনার দিকে।
হারের পর টুখেলের অতিরক্ষণাত্মক কৌশল যে সমালোচিত হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ইংল্যান্ড তারকা হ্যারি কেইনের কথায় তেমন ইঙ্গিতই মেলে। হারের পর বিবিসিকে কেইন বলেন, ‘ম্যাচের সিংহভাগ সময় আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছে আমরা শুধু লিডটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। এই পর্যায়ের ফুটবলে শুধু এতটুকু দিয়ে পার পাওয়া যায় না। তাই খুব কষ্ট হচ্ছে কারণ, এই পর্যায়ে আসতে আমরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি।’
কেইন আরও বলেন, ‘গোল করে তারা আক্রমণভাগে খেলোয়াড় বাড়িয়েছে, নাকি আমরাই তাদের ম্যান-মার্কিংয়ে টেক্কা দিতে পারিনি—সেটা জানি না। তবে একের পর এক আক্রমণের ঢেউ ঠেকিয়ে আমরা কেবল লিড ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট ছিল না।’