আর্জেন্টিনা যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ যেন দেখা গেছে ম্যাচের শেষ ভাগে। ৭৫ মিনিটের পর প্রতিপক্ষের ক্লান্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের

2026-07-16T12:34:16+00:00
2026-07-16T12:34:16+00:00
  শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬,
২ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
খেলা
আর্জেন্টিনা যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল
ক্রীড়া ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ যেন দেখা গেছে ম্যাচের শেষ ভাগে। ৭৫ মিনিটের পর প্রতিপক্ষের ক্লান্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণে এখন পর্যন্ত করেছে ১১ গোল। শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এই অসাধারণ ক্ষমতাই প্রমাণ করে, লিওনেল মেসিদের দল শুধু প্রতিভাতেই নয়—দুর্দান্ত মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াকু মানসিকতায়ও অনন্য। তাই আর্জেন্টিনা এখন যেন ঘুরে দাঁড়ানোরই আরেক নাম।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ফাইনালে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে। আর্জেন্টিনার প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন। সে হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি হবে স্প্যানিশ ভাষার দুটি দলের মধ্যে দ্বিতীয় ফাইনাল। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে উরুগুয়ে–আর্জেন্টিনা ফাইনাল তালিকায় প্রথম।

ফাইনাল আগেই নিশ্চিত করেছে সর্বশেষ ইউরোজয়ী স্পেন। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হওয়া গতকাল রাতে নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে হজম করা গোলে আর্জেন্টিনাই পিছিয়ে পড়েছিল ম্যাচে। এরপর ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ ও যোগ করা (৯০+২) সময়ে লাওতারো মার্তিনেজের গোলে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করে কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা।

৫৫ মিনিটে ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের মাঝে এই ৩১ মিনিটে ইংল্যান্ডের বলের দখল ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। অ্যাটাকিং থার্ডে মাত্র ৯ বার বল ছুঁতে পেরেছে ইংল্যান্ড, যেটা তাদের প্রতিপক্ষের চেয়ে ১৬৫ বার কম।

ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত নয়। মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষেও এগিয়ে থেকে খেলোয়াড়দের রক্ষণভাগে নেমে এসে চাপ সামলানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। পাশাপাশি বেঞ্চ থেকে ডিফেন্ডার ড্যান বার্নকে নামানোই বলে দিচ্ছিল গোল বাঁচানোই ইংল্যান্ডের আসল লক্ষ্য।

কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের বিপক্ষে চাপ সামলানো আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি ইংল্যান্ডের পক্ষে। পাশাপাশি চাপে পড়ে শেষ দিকে দু–একটি গোল আদায় করে ম্যাচ বের করাটা তো এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ‘সিগনেচার মার্ক।’

দুটি গোলের উৎস লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোয় মূল ভূমিকা পালন করেন। ইংল্যান্ড রক্ষণভাগে পুরোপুরি গুটিয়ে থাকায় বক্সের বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান মেসি। ডান প্রান্ত দিয়ে কখনো ক্রস, কখনো বক্সে ঢুকে বেশ বিপজ্জনক কিছু পাস দেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। শুধু মেসি নয়, বদলি নামা রদ্রিগো দি পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসাটা ছিল ইংল্যান্ডের জন্য বড় সতর্কবার্তা।

বক্সের বাইরে থেকে ফার্নান্দেজের শটটি ছিল দুর্দান্ত। সেটা সমতাসূচক গোল। এরপরই মেসির জাদুকরি মুহূর্ত—দুর্বল ডান পা দিয়ে দূরের পোস্টে নিখুঁত ক্রস দেন, যেখান থেকে জয়সূচক গোলটি করেন মার্তিনেজ। তখন যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় মিনিটের খেলা চলছিল। এবার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য শেষ মুহূর্তে গোল নতুন না। ম্যাচে ৭৫ মিনিট পার করে চলতি টুর্নামেন্টে এটা ছিল আর্জেন্টিনার ১১ তম গোল।


  বিষয়:   আর্জেন্টিনা  আমেরিকা  বিশ্বকাপ 


Loading...
Loading...

খেলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: