সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হওয়ার পরও দলীয় রাজনীতির সঙ্গে আগের মতোই সক্রিয় রয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী। নতুন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন তিনি। নতুন দায়িত্বের মধ্যেও পুরোনো ঠিকানার প্রতি তাঁর এই টান রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির দুঃসময়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কার্যত নিজের কর্মস্থল ও আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছিলেন রিজভী। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭৮৭ দিন তিনি দলীয় কার্যালয়েই অবস্থান করেন। সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ শীর্ষ নেতারা কারাগারে থাকায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, নেতাকর্মীরা যাতে দলীয় কার্যালয়ে এসে কাউকে না পেয়ে ফিরে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই তিনি দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করেছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষের পর পুলিশি নজরদারির মধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি রিজভীর নেতৃত্বেই তালা ভেঙে প্রবেশ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির নেতাদের দাবি, ঘটনাটি ছিল সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতীকী প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে নয়াপল্টন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রিজভী। এমনকি পানি মাড়িয়ে ও রিকশায় করে যাতায়াত করেও তিনি দলীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, দলের দুঃসময়ের স্মৃতি ও কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই নয়াপল্টনের সঙ্গে রিজভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল বলেন, দলের প্রতি রিজভীর ত্যাগ ও ভালোবাসা বিএনপির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দলীয় নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করলেও দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থেকে নয়াপল্টনের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক অটুট রেখেছেন রুহুল কবির রিজভী।