নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার নিয়োগে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে বাছাই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ী সায়েদুজ্জামানা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাইটাইল ইউনিয়নে একজন টিসিবি ডিলার নিয়োগের জন্য ১৬ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই ও তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবিরকে। তদন্ত শেষে ১৬টি আবেদনের মধ্যে লাবিব এন্টারপ্রাইজ, জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়।
তবে অভিযোগকারীর দাবি, টিসিবির ডিলার নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনকারীকে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী হতে হবে এবং বৈধ ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে। কিন্তু নীতিমালা উপেক্ষা করে জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোরকে যোগ্য হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে, যদিও প্রতিষ্ঠান দুটি প্রকৃত মুদি ব্যবসা পরিচালনা করে না।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জিসান এন্টারপ্রাইজ নামে কোনো স্থায়ী মুদি দোকান নেই। স্থানীয়দের দাবি, আশরাফুল নামের এক মুদি ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে অস্থায়ীভাবে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে ছবি তোলা হয়, পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে মায়ের দোয়া স্টোরে হাঁস-মুরগির খাদ্য, গবাদিপশুর খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়।
ডিলার পদে আবেদনকারী মুদি ব্যবসায়ী কাজী আলম বলেন, আমি ১৯৯৮ সাল থেকে বাররী বাজারে মুদি ব্যবসা করছি। অথচ আমার নাম বাদ দিয়ে যাদের বাছাই করা হয়েছে, তাদের মধ্যে জিসান এন্টারপ্রাইজের মালিক হিরণ মূলত ধান ব্যবসায়ী। তার নামে সার বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে।
বাররী বাজার কমিটির সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন বলেন, মায়ের দোয়া স্টোর মূলত হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খাদ্যের দোকান। পাশাপাশি কিছু ওষুধও বিক্রি করা হয়।
তবে মায়ের দোয়া স্টোরের স্বত্বাধিকারী মনির হোসাইন দাবি করেন, হাঁস-মুরগির খাবারের পাশাপাশি আমি মুদি ব্যবসাও করি।
জিসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খালেকুজ্জামান হিরণ বলেন, যেখানে সাইনবোর্ড দেখেছেন, সেটিই আমার দোকানঘর। ২০০৯ সালে সার বিক্রির একটি লাইসেন্স করেছিলাম, পরে আর তা নবায়নের বিষয়টি দেখিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মদন শাখা ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবির বলেন, তদন্তে যা পেয়েছি, তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছি। এ বিষয়ে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাদির হোসেন শামীম বলেন, লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।