কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নে একটি ছোট সেতুর অভাবে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। ব্রহ্মপুত্র শাখা নদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের ওপর সেতু না থাকায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে গিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, জিনারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ ফসলি জমি খালের ওপারে হওয়ায় কৃষকদের ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ঘরে তুলতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে কথা হলে সাবেক গ্রাম সরকার আবেদ আলী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি। একটি ছোট সেতুর অভাবে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট করছে। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয় কৃষক মোসারফ হোসেন বলেন, আমাদের জমি খালের ওপারে। ধান-পাটসহ সব কৃষিপণ্য এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই আনতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও খরচ অনেক বেড়ে যায়।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুম বলেন, এটি শুধু একটি গ্রামের নয়, কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রাণের দাবি। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক মাঝি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
স্কুল শিক্ষার্থী আশিক জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে ভয় লাগে। বর্ষাকালে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। একটি পাকা সেতু হলে নিরাপদে চলাচল করতে পারব।
এলাকার প্রবীণদের দাবি, অতীতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, একটি ছোট সেতু নির্মাণ হলে কয়েকটি গ্রামের শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, সেতু নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।