চট্টগ্রাম মহানগরীতে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে এককালীন দুই কোটি টাকা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবিতে অফিসে ঢুকে প্রকাশ্যে তাণ্ডবের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এক দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এর আগে গত সোমবার রাতে ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ শামশুদ্দোহা মিনহাজ চকবাজার থানায় মামলা করেছেন। এতে অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বললেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে যেভাবে অভিযোগ করা হয়েছে সেভাবেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে কল করে হুমকিদাতা তার নাম ডেভিড ইমন বলেছিলেন। ইমনের নাম আসামির তালিকায় না থাকলেও মামলার সারসংক্ষেপে আছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান ওসি।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান প্রামাণিক বললেন, আপাতত কারো নাম বলতে চাচ্ছি না। অভিযান চলছে।
এদিকে ভিডিও ফুটেজে মুখে মাস্ক পরা হামলাকারীদের স্পষ্ট দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকির অডিও পুলিশ পেয়েছে। এরপরও মামলায় কারো নাম-পরিচয় উল্লেখ না করে দেওয়া এজাহার পুলিশের গ্রহণ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে ডিডিএন’র এক কর্মকর্তার ভাষ্য, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ যেভাবে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে সেভাবেই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে সোমবার দুপুরে নগরীর চকবাজার থানার বাকলিয়া এক্সেস রোডে মরিয়ম হাইটসের তৃতীয় তলায় ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) অফিসে নির্বিচারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনকে গত শনিবার একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে এককালীন দুই কোটি টাকা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ডেভিড ইমনের সঙ্গে ফোনকলে প্রতিষ্ঠানের মালিক চাঁদা দিতে অসম্মতি জানান। এর দুই দিনের মাথায় সোমবার দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী অতর্কিতে তাদের অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। সন্ত্রাসীরা ৪টি ডেস্কটপ, ৪টি ল্যাপটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও অফিসের দরজা ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক আরিফুল ইসলামের ব্যাগ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
পুলিশের কাছেই তথ্য আছে, ডেভিড ইমন নামে চট্টগ্রাম জুড়ে ত্রাস সৃষ্টিকারী এই সন্ত্রাসীর প্রকৃত নাম মোবারক হোসেন ইমন। বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়।