টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে সচল হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ। রেললাইন থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত শেষে রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে এই রুটে স্বাভাবিক হয় রেল যোগাযোগ। এতে কয়েক দিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মধ্যে।
রোববার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছে। সেখানে ২০ মিনিট যাত্রাবিরতির পর ট্রেনটি কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে মহাব্যবস্থাপক ষোলশহর স্টেশন ও ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি রেললাইনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন।
রেলওয়ের সূচি অনুযায়ী, পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার পলাশ দে জানান, পর্যটক এক্সপ্রেস দিয়ে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। বাকি ট্রেনগুলোও পর্যায়ক্রমে চলবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে টানা ভারী বর্ষণে রেললাইন প্রায় ২০ ইঞ্চি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫) ষোলশহর-জানালীহাট সেকশনে আটকে পড়ে। একই সময়ে ফরেস্ট গেইট এলাকায় রেললাইনের ওপর একটি গাছ উপড়ে পড়ায় ট্রেনটি প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে অবরুদ্ধ ছিল। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ভোগান্তির পর সেদিন রাত ১১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল ঘোষণা করে রেল কর্তৃপক্ষ।
পাঁচ দিন পর এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের ওপর নির্ভরশীল হাজারো যাত্রী ও পর্যটকের মধ্যে।