প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর ঢাকার আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ময়লার ভাগাড় অপসারণ, দুর্গন্ধমুক্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) আমিনবাজার-হেমায়েতপুর এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
জানা গেছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্ষাকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার ভাগাড় ও তীব্র দুর্গন্ধ প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ঢাকা জেলা প্রশাসককে দ্রুত ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে এলাকাটিকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে রূপান্তরের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা প্রশাসন কার্যক্রম শুরু করে।
চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনে শনিবার ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পর্যায়ক্রমে পুরো সড়কটিকে পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা হবে। এ কার্যক্রমের আওতায় সড়কের দুই পাশের সব ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে বর্জ্য স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি বালি ও মাটি দিয়ে সড়কের দুই পাশ ভরাট করে ঢাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে বৃষ্টির পানিতে মাটি ধসে না যায়।
সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য দুই পাশে নিম, সুপারি, নারিকেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে সেখানে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য সড়কের দুই পাশে উঁচু বেড়া নির্মাণ, সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সড়কটিকে দুর্গন্ধমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে অবৈধভাবে ময়লা ফেলা না হয়, সে বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।