রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৯ বছরে পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে ৪০ জন

ভোরের ডাক ডেস্ক

সারাদেশ

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে বর্ষা এলেই নতুন করে দেখা দেয় পাহাড়ধসের আতঙ্ক। প্রতিবছর ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ

2026-07-11T13:56:04+00:00
2026-07-11T13:56:04+00:00
  বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস ৪৫ হাজার মানুষ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৯ বছরে পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে ৪০ জন
ভোরের ডাক ডেস্ক
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে বর্ষা এলেই নতুন করে দেখা দেয় পাহাড়ধসের আতঙ্ক। প্রতিবছর ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ ও ঢালে মানুষের বসবাস বন্ধ হয়নি। 

বিশেষ করে ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমনের পর উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অপরিকল্পিত বসতি গড়ে ওঠায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

২০১৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের জুলাই মাসের ভয়াবহ পাহাড়ধসে ৫ জন, ২০২৪ সালে ৯ জন, ২০২৫ সালে ১ জন এবং চলতি বছরে সর্বশেষ ঘটনায় ১৬ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এ আগেও ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় পাহাড়ধসে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিবৃষ্টি, পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, অতিরিক্ত জনঘনত্ব এবং বন উজাড়ের কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ছে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর মধ্যে কুতুপালং এক্সপ্যানশন সাইটের ক্যাম্প-১ই, ১ডব্লিউ, ২ই, ২ডব্লিউ, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭; বালুখালীর ক্যাম্প-৮ই, ৮ডব্লিউ ও ৯ এবং ক্যাম্প-১৪, ১৫, ১৯, ২১ ও ২২-এর পাহাড়ঘেঁষা এলাকাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ১৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ বসবাস করছে। এসব এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলো বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

পাহাড়ধস মোকাবিলায় সরকার ও আইএসসিজির (ISCG) সমন্বয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। এসব সংস্থা আগাম সতর্কবার্তা প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, ঢাল স্থিতিশীলকরণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করছে। এরপরও পাহাড় ধস বন্ধ হচ্ছে না৷

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা সংকটের পর পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১৪ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। তবে পরিবেশবিদদের মতে, শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, পাহাড় রক্ষা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

রোহিঙ্গা সংগঠন আরসিপিআরের নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলে পাহাড়ধসের ভয় নিয়ে রোহিঙ্গাদের বসবাস করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মানবিক কর্মী ইউনুস আরমান বলেন, পাহাড়ধস নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত হওয়া দরকার। শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলে হবে না, বর্ষার আগেই ঝুঁকি কমানোর কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

পালংখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা বশর বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাগুলোতেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। পাহাড়ের আশপাশে বসবাসকারী মানুষ বর্ষা মৌসুমে আতঙ্কের মধ্যে থাকে।

পরিবেশবিদ জসিম আজাদ বলেন, পাহাড় কাটা, বন ধ্বংস এবং অপরিকল্পিত বসতি পাহাড়ের স্বাভাবিক কাঠামো দুর্বল করে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারী বৃষ্টিপাত বাড়ায় ভবিষ্যতে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ধস রোধে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পাহাড় সংরক্ষণ, বন পুনরুদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরানো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যতায় আরও ভয়াবহ পাহাড় ধসে মৃত্যু ঘটতে পারে৷

উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভলান্টিয়ার দিয়ে মাইকিং করা হয়েছে৷ পাহাড়ধস মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় এপিবিএন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। ক্যাম্পবাসীদের নিরাপদ স্থানে থাকতে সচেতন করা হচ্ছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আমাদের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ক্যাম্পে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্যাম্পের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: