বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে নাটকীয়ভাবে বিদায় নিলেও দেশে ফিরে বীরের সংবর্ধনা পেয়েছে মিসর জাতীয় ফুটবল দল। হাজারো সমর্থকের ভালোবাসা, জাতীয় পতাকা, দেশাত্মবোধক গান আর কৃতজ্ঞতার ব্যানারে মুখর হয়ে ওঠে দলটির স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।
শুক্রবার উত্তর আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর ভূমধ্যসাগর উপকূলের আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক সমর্থক। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানাতে সেখানে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ছবি হাতে অনেক সমর্থকের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ধন্যবাদ’।
বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে নিউ আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করেন খেলোয়াড়রা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো সমর্থকের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন তারা। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে মিসর। চারবারের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয় পেয়েছে তারা। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো পৌঁছেছে শেষ ষোলোতেও। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফারাওরা।
সমর্থকদের ভিড়ে কোচ হোসাম হাসানের বড় বড় ছবিও দেখা যায়, যেগুলোতে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়ানো ছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবেই এমন দৃশ্য দেখা গেছে। টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন এবং সংবাদ সম্মেলনেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন।
শেষ ষোলোয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিসর। ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে টানা তিন গোল হজম করে স্বপ্নভঙ্গ হলেও বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য নিয়েই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরেছে দলটি।