মাঠে গোলের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার আলোচনায় প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তও। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিএআর রিভিউ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ জানিয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
তার অভিযোগ, সিদ্ধান্ত নিতে অতিরিক্ত সময় নেওয়ায় ম্যাচের গতি ও খেলোয়াড়দের ছন্দ নষ্ট হচ্ছে, যা দর্শক ও ফুটবলার—উভয়ের জন্যই হতাশাজনক।
মরক্কোকে ২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজেদের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। তবে এই জয়ের রাতেও ম্যাচ ছাপিয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রথমার্ধের একটি দীর্ঘ ভিএআর রিভিউ এবং ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস।
এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নরওয়েজিয়ান তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
ম্যাচের প্রথমার্ধে মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই এমবাপ্পেকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এমবাপে স্পট কিক নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেও, মাঠের রেফারি ভিএআর চেক করার সিদ্ধান্ত নেন। এই রিভিউ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড ধরে চলে। দীর্ঘ এই বিলম্বের সময় এমবাপ্পেকে মাঠের রেফারির সঙ্গে বেশ উত্তেজিতভাবে কথা বলতে দেখা যায়।
এই ঘটনাটি মোটেও পছন্দ হয়নি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকা আর্লিং হালান্ডের। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘একটি পেনাল্টি শট নেওয়ার জন্য ৫ মিনিট অপেক্ষা করা সত্যিই অনেক দীর্ঘ সময়।’
সময়টা হালান্ড কিছুটা বাড়িয়ে বললেও, ভিএআর-এর এই দীর্ঘ বিলম্ব যে খেলোয়াড়দের মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে—তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস ও বুনোর বীরত্ব : দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত যখন এমবাপ্পে ১২ গজ দূর থেকে শট নেন, তখন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনু চমৎকার এক সেভ করেন। পেনাল্টি মিস করার পর এমবাপ্পেকে বেশ বিরক্ত ও হতাশ দেখায়। এই ঘটনাটি ম্যাচের পর ফুটবল ভক্ত এবং বিশেষজ্ঞদের মাঝেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে প্রথমার্ধের সেই হতাশা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রান্স। এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লে ব্লুজরা। এই টুর্নামেন্টে তৃতীয়বারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ফরাসি অধিনায়ক।