ফ্রান্সের জয় কেবল স্কোরলাইনে নয়, কৌশলগত লড়াইয়েও এসেছে—এমনটাই মনে করেন দলটির কোচ দিদিয়ের দেশম। মরক্কোর দুর্দান্ত লড়াই ও অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েই জয় নিশ্চিত করেছে তার দল। কঠিন এই জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স এখন চোখ রাখছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দিকে।
মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি মিস এবং প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরও ম্যাচ জয়ের বিষয়ে ফরাসি শিবিরে কোনো সংশয় ছিল না বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশম।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
কোয়ার্টার ফাইনালের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের ২৮ মিনিটের পেনাল্টি শট মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো রুখে দেন। এরপরও চাপ ধরে রাখে লে ব্লুজরা। প্রথমার্ধের ঠিক আগ মুহূর্তে লুকাস ডিনের একটি দূরপাল্লার শট বারে লেগে ফিরে আসে। তবে ফরাসিরা হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে বলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে এবং এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, দেসিরে দুয়ে ও উসমান দেম্বেলেদের জন্য স্পেস তৈরির অপেক্ষা করতে থাকে।
২-০ গোলের এই জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, প্রথমার্ধে আমাদের দক্ষতায় কিছুটা ঘাটতি ছিল, পেনাল্টি মিস হয়েছে এবং বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে কখনোই কোনো সংশয় জাগেনি, বিশেষ করে কিলিয়ানের তো নয়ই। এই জয়ের ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখল বর্তমান রানার্সআপরা; যেখানে ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের।
মরক্কোকে পরাস্ত করার কৌশল নিয়ে দেশম বলেন, “আমরা তাদের কোণঠাসা করার জন্য সবকিছু ঠিকঠাক করেছি। আমরা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছি এবং মাঠে দৌড়াতে বাধ্য করেছি। শেষ পর্যন্ত তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।”
২০১২ সালে ফ্রান্সের কোচের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দেশম তার দলকে সাতটি বড় টুর্নামেন্টের (ইউরো ও বিশ্বকাপ) মধ্যে পাঁচবারই সেমিফাইনালে তুলেছেন। এই সাফল্যের কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের দিয়ে তিনি বলেন, ভালো খেলোয়াড় থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। কোচিং স্টাফদের সাফল্য আসে খেলোয়াড়দের হাত ধরে, যদিও আমিও হয়তো কিছু জিনিস ঠিকঠাক করছি। আজকের ফলাফলের বাইরেও ওয়ারেন জাইরে-এমেরির মতো খেলোয়াড়, যে এর আগে এক মিনিটও খেলার সুযোগ পায়নি, সে মাঠে নেমে দুর্দান্ত প্রভাব ফেলেছে। এটি আসলে একটি মানবিক অভিজ্ঞতাও বটে।
আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখলেও এখনই হাওয়ায় ভাসতে রাজি নন দেশম। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের সঙ্গে এবারের আসরের তুলনা করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে কেউ আমাদের সফল হওয়ার আশা করেনি। ২০২২ সালে আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ছিলাম, আর সাধারণত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা শেষ ১৬ থেকেই বাদ পড়ে যায়। কিন্তু এবার টুর্নামেন্টের প্রথম বল মাঠে গড়ানোর আগেই সবাই আমাদের চ্যাম্পিয়ন ধরে রেখেছে।
খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে ফরাসি কোচ যোগ করেন, আমার খেলোয়াড়রা এই চাপের মুখে খেলতে অভ্যস্ত এবং তারা এখনই গা ভাসিয়ে দেবে না। এই মুহূর্তে আমরা ১৪ জুলাইয়ের (সেমিফাইনালের দিন) চেয়ে দূরে কিছু ভাবছি না এবং আমাদের জাতীয় দিবসের (বাস্তিল দিবস) জন্য এটি একটি দারুণ তারিখ। সূত্র: রয়টার্স