তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ ও উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তরুণদের বিকাশে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আগামীকাল শনিবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (১০ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা হলো তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উন্নয়নের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাও পূরণ হবে।
তিনি জানান, এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’— বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত সময়োপযোগী।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার তরুণদের সুশিক্ষিত, দক্ষ, স্বাবলম্বী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক, বাল্যবিবাহ ও সহিংসতার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও টেকসই জাতি গঠনে নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য এবং পরিকল্পিত পরিবার অপরিহার্য। এজন্য মা-শিশু স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও সর্বজনীন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তরুণদের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের সব অংশীজনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।