টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঢালে বসবাসকারী প্রায় দুই হাজার পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করেছে।
রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে লামা-বান্দরবান-সুয়ালক সড়কের টিটিএন্ডডিসি এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে লামা উপজেলার পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ পাহাড়ের চূড়া, ঢাল ও পাদদেশে বসবাস করেন। অতীতের ভয়াবহ পাহাড় ধসের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে এবারও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আজিজনগর চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের চারতলা ভবনও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যানপাড়া, নারকাটাঝিরি, হাসপাতালপাড়া, বড় নুনারবিল, চাম্পাতলী, নয়াপাড়া, সাবেক বিলছড়ি, রাজবাড়ী, কলিঙ্গাবিল, কাটাপাহাড়, মধুঝিরি ও ছাগলখাইয়া। এছাড়া ফাইতংয়ের রইম্যাখোলা, আজিজনগর, সরই, গজালিয়া ও রূপসীপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢালেও বসবাসকারী পরিবারগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টানা গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝারি বৃষ্টিপাতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে এবং জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা শহরের ৮টি স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। সেসব স্থানের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে কাজ চলছে। পাশাপাশি মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের নিচে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।