ভারতের মহারাষ্ট্রে স্কুল ও কলেজের ৫০০ মিটার এলাকার মধ্যে এনার্জি ড্রিংকস বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পর এখন একই ধরনের নীতি গ্রহণের দাবি উঠেছে প্রতিবেশী রাজ্য কর্ণাটকেও।
মহারাষ্ট্রের বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক বিক্রম পচপুতে এনার্জি ড্রিংকসের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে রাজ্যের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন মন্ত্রী নরহরি জিরওয়াল জানান, স্কুলের আশপাশে ৫০০ মিটারের ‘নো-সেল জোন’ কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। এর আওতায় উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত এনার্জি ড্রিংকসের বিক্রিও নিষিদ্ধ থাকবে।
বিধায়ক পচপুতে দাবি করেন, ‘স্টিং’ নামের একটি জনপ্রিয় এনার্জি ড্রিংক শিশুদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করছে এবং তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। তার মতে, বোতলের গায়ে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য উপযুক্ত নয় লেখা থাকলেও স্কুলের আশপাশে এগুলো সহজলভ্য হওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে এসব পানীয়ের প্রভাব অ্যালকোহলের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুল-কলেজ এলাকার নির্ধারিত সীমানার মধ্যে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি এনার্জি ড্রিংকস বিক্রিও নিষিদ্ধ থাকবে।
এদিকে মহারাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পরপরই কর্ণাটকেও একই ধরনের নীতি গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে। রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান শশীধর কোসাম্বে মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারের কাছে চিঠি লিখে স্কুল-কলেজের ৫০০ মিটার এলাকার মধ্যে এনার্জি ড্রিংকস ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব পানীয়তে থাকা কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক উপাদান শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বর্তমানে কর্ণাটকে স্কুল-কলেজের ১০০ মিটার এলাকায় তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে—এ সীমা বাড়িয়ে ৫০০ মিটার করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।