৩৭ বছরের নেতৃত্বের অবসান ঘটলেও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ইরানে চলছে ব্যাপক রাষ্ট্রীয় শোক। তার জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি অর্ধশতাধিক দেশের প্রতিনিধি তেহরানে অবস্থান করছেন। তবে এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে না প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—কেন তিনি উপস্থিত নেই?
কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেন, বাবার জানাজায় ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি নিরাপত্তাজনিত কারণেই সবচেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা হিসেবে ধরা যায়। তার মতে, ইরান আশঙ্কা করছে জানাজার সময় ইসরায়েল নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা (ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক) চালাতে পারে। অতীতেও এমন রাজনৈতিক শোকযাত্রায় হামলার নজির রয়েছে।
তবে তিনি এটাও মনে করেন, দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না থাকা মোজতবা খামেনির জন্য ভবিষ্যতে প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে বোঝানো যায় তিনি বাস্তবেই রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে সক্রিয়।
এদিকে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার সামনে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
রাষ্ট্রীয়ভাবে দুই দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। সোমবার শোকযাত্রা কোম শহর হয়ে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে শেষ হবে মাশহাদে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল জানাজা ইরানের রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে বাবার শোকানুষ্ঠানে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতিকেই মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে সম্প্রতি তাকে লক্ষ্য করে হত্যার হুমকির খবরও সামনে এসেছে।