চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা নিয়ে চলমান আলোচনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এ ধরনের আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর ভারত সতর্ক নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, চীনের কাছ থেকে জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আলোচনা এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (সিএমবিসি) নিয়ে বেইজিংয়ের প্রস্তাব ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের অঞ্চলের এ ধরনের সব ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
বাংলাদেশে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল জানান, এ প্রকল্প সম্পর্কে ভারতের অবস্থান ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতের সহায়তা পারস্পরিকভাবে সম্মত রোডম্যাপের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় রেখেই ভারত তার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চীন তিস্তা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে। একই সময়ে তিস্তা ব্যারেজ মাস্টার প্ল্যানকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের বিষয়েও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এদিকে একই ব্রিফিংয়ে সিন্ধু পানি চুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, পাকিস্তানের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থনের কারণে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত। তার ভাষায়, পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন ত্যাগ করতে হবে।