পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন উত্তাপ

ভোরের ডাক রিপোর্ট

জাতীয়

রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক কর্মী এবং স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।শনিবার

2026-07-05T14:19:28+00:00
2026-07-05T14:20:15+00:00
  বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
গুলিস্তানে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ
পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন উত্তাপ
ভোরের ডাক রিপোর্ট
রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ২:১৯ পিএম  আপডেট: ০৫.০৭.২০২৬ ২:২০ পিএম
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক কর্মী এবং স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। 

শনিবার সংঘর্ষের ঘটনার পর রোববার (৫ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়। 

একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি। এতে ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

রোববার (৫ জুলাই) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ‘চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি’র উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট এবং স্টেডিয়াম মার্কেটের বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী, দোকান কর্মচারী এবং জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গুলিস্তান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম। 

বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী নেতা শাহীন আহমেদ খান, আহসান হাবীব, অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী, মাওলানা শরিফুল ইসলাম এবং মঞ্জুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির শিকার হচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের প্রস্তুতি চলাকালে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ব্যবসায়ী কবির আহমেদসহ বহু ব্যক্তি আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও পুলিশ কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে তারা দাবি করেন। পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করে তারা বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সালাম বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সন্ত্রাস, দখলবাজি বা চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। অপরাধীর পরিচয় দল নয়, তার অপরাধ—এই নীতিতে আইন প্রয়োগের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরাসরি বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, গুলিস্তানে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন।

জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন দাবি করেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনুরোধে জামায়াতের নেতারা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এরই জেরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে গুলিস্তান ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং মোবাইল যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী কবির আহমেদ ছুরিকাহত হন। তাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে স্থানীয় বিএনপি। বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ মামুন দাবি করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা ওই এলাকায় অন্য কর্মসূচিতে অবস্থান করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতের নেতা-কর্মীরাই প্রথমে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটান। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কে পরে জানতে পেরেছেন।

মার্কেট দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা হয়েছে মাত্র; কোনো মার্কেট দখলের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, স্থানীয় দোকানদারদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

গুলিস্তানের সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী মহলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: