২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগে ইংল্যান্ড শিবিরকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে এক ব্যতিক্রমী বিষয়। মেক্সিকো সিটির উচ্চতাজনিত শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনে ফুটবলাররা প্রেসক্রিপশন ওষুধ ভায়াগ্রা (সিলডেনাফিল) ব্যবহার করতে পারবেন। বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থার (WADA) ২০২৬ সালের নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় এটি না থাকায়, চিকিৎসকের পরামর্শে এর ব্যবহারে কোনো ডোপিং-সংক্রান্ত বাধা নেই।
সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ড ও স্বাগতিক মেক্সিকোর মধ্যকার হাইভোল্টেজ শেষ ষোলোর লড়াই। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই স্টেডিয়ামের পাতলা বাতাসের কারণে খেলোয়াড়দের দ্রুত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট এবং অক্সিজেনের ঘাটতির মতো সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, সিলডেনাফিল ফুসফুসের রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যার প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি সব পরিস্থিতিতে কার্যকর- এমন সিদ্ধান্তে গবেষকেরা একমত নন।
এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলের কোনো খেলোয়াড় এই ওষুধ ব্যবহার করবেন- এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দলের প্রধান কোচ টমাস টুখেল মেক্সিকোর কঠিন পরিবেশে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব বৈজ্ঞানিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।
পরিসংখ্যানও মেক্সিকোর পক্ষেই কথা বলছে। ঘরের মাঠ অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে গত ৫৬ বছরে মাত্র দুটি ম্যাচে পরাজিত হয়েছে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে, গত বুধবার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে হারানোর পর ইংল্যান্ড দল সরাসরি মেক্সিকো না গিয়ে ক্যানসাস সিটির বেস ক্যাম্পে অবস্থান করে অনুশীলন চালিয়ে যায়। কোচ টুখেলের পরিকল্পনা ছিল নিরপেক্ষ পরিবেশে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। ফলে শুক্রবার মেক্সিকো পৌঁছানো থ্রি লায়ন্সদের উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য হাতে থাকছে মাত্র দুই দিন, যা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: দ্য সান