মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চায়ের জনপদ কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃজনশীল, তথ্যভিত্তিক ও ইতিবাচক কনটেন্ট নির্মাণে অবদান রাখায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১১ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মনোনীত ও অংশগ্রহণকারী প্রায় ৭০ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকেও সম্মাননা জানানো হয়।
ন্যাচারাল অ্যান্ড লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন ইউসুফ শাহরিয়ার, মো. আল আমিন ইসলাম, ফাহিম আহমেদ, রোকসানা আফরিন শিমু, তানভীর আহমেদ, শিশির ধর, রাদিয়ান হোসেন ও মো. শহিদ। এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড কমেডি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন দীপ চক্রবর্তী। ফুড অ্যান্ড রেসিপি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পান কাজী ফয়সাল আহমেদ রিয়াদ এবং অ্যাদার্স ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন মো. ফারহান তানভীর ফাহিম।
সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পলাশ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক নির্মল এস পলাশ ও সালাহউদ্দিন শুভ। স্বাগত বক্তব্য দেন ডা. নাজেম আল কোরেশী রাফাত। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিবুল্লাহ আকন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মোছাব্বির আলী মুন্না এবং শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তী কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ আবুজাফর সালাউদ্দিন।
পুরস্কারপ্রাপ্ত মো. ফারহান তানভীর ফাহিম বলেন, এই স্বীকৃতি তার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। যারা তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড কমেডি ক্যাটাগরির বিজয়ী দীপ চক্রবর্তী বলেন, তিনি সবসময় তার কনটেন্টের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেন এবং এ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক ও ‘চায়ের জনপদ’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. তোফায়েল আহমেদ (পাপ্পু) বলেন, স্থানীয় ডিজিটাল মিডিয়া হিসেবে ‘চায়ের জনপদ’ দীর্ঘদিন ধরে শ্রীমঙ্গলের সংবাদ, ঐতিহ্য, পর্যটন ও সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরছে। দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাতাদের উৎসাহিত করতেই এই অ্যাওয়ার্ডের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রকাশ করা হয়। ২ মে বিকেল ৫টা থেকে ৬ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনলাইন ভোটগ্রহণের পর ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে ১১ জন বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়মিতভাবে এই আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।