
১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮—বিশ্বকাপের আগের তিনটি আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল মিশর। প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলা সেই হতাশার ইতিহাস এবার বদলে দিলেন মোহাম্মদ সালাহরা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দলটি।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি গড়ায় শনিবার রাত দুইটারও পরে। টানা তিন ঘণ্টার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল জয়ের গোল না পাওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।
সেখানে শুরু থেকেই এগিয়ে যায় মিশর। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শটেই হ্যারি সাউটারের প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। আর বদলি হিসেবে শেষ দিকে মাঠে নামা মাহমুদ সাবের প্রথম স্পট-কিক থেকেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। জ্যাকসন আরভিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করলেও মিশর নিজেদের পরের দুটি শটও সফলভাবে জালে পাঠায়।
অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় শটে আওয়ার মাবিল গোল করলেও চতুর্থ শটে ১৮ বছর বয়সী হ্যারিংটন ব্যর্থ হন। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের চাপ সামলাতে পারেননি। তার শট রুখে দেওয়ার পর মিশরের হয়ে আবদেল মাগিদ জয়সূচক পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ৪-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৩৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল মিশর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন সালাহ ও তার সতীর্থরা।