নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু পেনাল্টি থেকে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সেলেসাওরা। ব্রুনো গিমারায়েসের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত সেই মিসের মূল্য চুকাতে হয়েছে ব্রাজিলকে। ২-১ গোলের পরাজয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে।
পেনাল্টির আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ব্রুনো গিমারায়েসকে বল হাতে স্পটের কাছে কিছুক্ষণ আলোচনা করতে দেখা যায়। তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন, শটটি নেবেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস।
ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—ভিনিসিয়ুস প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি পেনাল্টি নিলেন না? এর জবাব দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নিজেই। তিনি জানান, ম্যাচ শুরুর আগেই পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কোচের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রুনোই ছিলেন প্রথম পছন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘কোচ ম্যাচ শুরুর আগেই ঠিক করে দেন, পেনাল্টি কে নেবে। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মধ্যে কখনও কোনো দম্ভ ছিল না। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে হবে—এমন কোনো ভাবনাও আমার নেই। তাই ব্রুনোই পেনাল্টি নিয়েছে। ও আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয়, সে কারণেই কোচ তাকে বেছে নিয়েছেন। ব্যস, এটুকুই। তবে আমি কখনও দায়িত্ব এড়িয়ে যাইনি।’
একই সঙ্গে ভিনিসিয়ুস স্পষ্ট করে জানান, প্রয়োজন হলে তিনি পেনাল্টি নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেকে হয়তো বলবেন, আমি পেনাল্টি নিতে চাইনি। কিন্তু আমি দায়িত্ব ছেড়ে পালানোর মানুষ নই। রিয়াল মাদ্রিদে কোচ যখন আমাকে দায়িত্ব দেন, আমি পেনাল্টি নিই। আমাদের আগামী বিশ্বকাপ এবং সামনে থাকা ম্যাচগুলোর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’
পেনাল্টি নেওয়ার আগে ব্রুনোর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলতে দেখা যাওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, দায়িত্ব নিয়ে দুজনের মধ্যে কোনো মতবিরোধ হয়েছিল কি না। তবে সেই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস।
তিনি বলেন, ‘কোনো বিতর্কের অবকাশই ছিল না। পেনাল্টি নেওয়ার জন্য ব্রুনোকেই বেছে নিয়েছিলেন কোচ। আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি এবং কোচ তাকেই নির্বাচন করেছেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা বা সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কোনো অহমিকা আমার নেই।’
পরিসংখ্যানও বলছে, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে পেনাল্টিতে ভিনিসিয়ুসের সাফল্যের হার খুব বেশি নয়। ক্যারিয়ারে তিনি মোট ১৯টি পেনাল্টি নিয়ে ১৩টিতে গোল করেছেন। তবে ব্রাজিলের জার্সিতে তিনটি পেনাল্টির মধ্যে সফল হয়েছেন মাত্র একবার। অন্যদিকে ব্রুনো গিমারায়েস ক্যারিয়ারে মাত্র তিনটি পেনাল্টি নিয়েছেন এবং তিনটিতেই গোল করেছেন। যদিও নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিলের হয়ে তিনি কখনও পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পাননি।