বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ যেন দুই রঙে রাঙে—হলুদ-সবুজ আর আকাশি-সাদা। সমর্থকদের তর্ক-বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিমযুদ্ধ আর উত্তেজনার মধ্যেই ঢাকায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতরা দিলেন ভিন্ন এক বার্তা—প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক মাঠে, সম্পর্ক থাকুক সম্প্রীতির।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ঢাকার গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেসের পাশে বসে তার কাঁধে হাত রেখে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বললেন, আমরা কিন্তু বন্ধু। আর তার কথার পিঠে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত বললেন, আপনারা শান্তি বজায় রাখুন, মারামারি করবেন না। শুধু খেলাটা উপভোগ করুন। তারা এসেছিলেন দেশের প্রথম এয়ারলাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ (এএফসি) টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। প্রতি দলে ছয়জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে ছোট মাঠের এ ফুটবল (ফুটসাল) টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে দেশি-বিদেশি ১৬টি এয়ারলাইন্স। দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল হবে কাল শনিবার। এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলপ্রেমী। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে মানুষের যে আবেগ ও উন্মাদনা, তা বিশ্বজুড়েই পরিচিত।
সেই ফুটবল ভালোবাসাকে ধারণ করেই এ ধরনের আয়োজন দেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একদিন বাংলাদেশের ফুটবলও এমন অবস্থানে পৌঁছাবে, যখন দেশের মানুষ নিজেদের জাতীয় দলকে নিয়েও একই রকম আবেগ ও উন্মাদনায় উদযাপন করবে। খেলাধুলার প্রসারে এমন উদ্যোগ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো বলেন, ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ফুটবল শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি আনন্দেরও প্রতীক। জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে খেলাটিকে উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফুটবল শান্তি ও সম্প্রীতির খেলা। প্রিয় দলকে সমর্থন করুন, আনন্দ করুন, তবে সবকিছু যেন শান্তিপূর্ণ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে শুধু মাঠে, মাঠের বাইরে নয়।
আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, ফুটবল বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্র করে। বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল সব দেশের মানুষের মধ্যে এ খেলাটি বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের ফুটবল আরো এগিয়ে যাক এবং দেশের তরুণ খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে—সেই প্রত্যাশা রাখেন আর্জেন্টিনার দূত। একইসঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদও উপস্থিত ছিলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মধ্যে।
এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হয়েছে। এ খাতের সঙ্গে যুক্ত দেশি-বিদেশি পেশাজীবীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের বাইরে পারস্পরিক পরিচিতি, সৌহার্দ্য ও সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার জন্য একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন ছিল।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদিয়া, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যারাবিয়া, ইন্ডিগো, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া, থাই এয়ারওয়েজ, এয়ারএশিয়া, সিল্কওয়ে ওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাই দুবাই এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ।