উৎসবের মঞ্চ ছিল প্রস্তুত। চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল মেক্সিকো। প্রায় ৮০ হাজার সমর্থকের গর্জনে উজ্জীবিত হয়ে দারুণ এক পারফরম্যান্সে নকআউট পর্বের বাধা টপকে বহু প্রতীক্ষিত জয় তুলে নিয়েছে দলটি। ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জয় পেয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন করে শিরোপার স্বপ্নও জাগিয়ে তুলেছে মেক্সিকানরা।
বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে একুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৪০ বছরের খরা কাটাল মেক্সিকো। সবশেষ সেই ১৯৮৬ আসরে নকআউটের ম্যাচ জিততে পেরেছিল তারা।
আসতেকা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার (১ জুলাই) সকালে গোল দুটি করে হুলিয়ান কিনোনেস এবং রাউল হিমেনেস।
বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথম জয়ের খোঁজে ছিল ইকুয়েডরও। কিন্তু মেক্সিকো প্রথমার্ধে দুই গোল করে ইকুয়েডরকে প্রায় ‘নকআউট’ করে দেয়। পরের অর্ধে সম্পন্ন হয় দক্ষিণ আমেরিকান দলটিকে বিদায় দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা।
তবে অবাক করা বিষয় হলো, ম্যাচে ৫৫.৭ শতাংশ বল ইকুয়েডরের দখলেই ছিল। কিন্তু শট নিতে পেরেছে মাত্র ৫টি, তার মধ্যে ১টি পোস্টে। মেক্সিকো সে তুলনায় বেশি কার্যকর ফুটবল খেলেছে। ১৪টি শটের ৩টি পোস্টে রাখতে পেরেছে, তার মধ্য থেকে গোল এসেছে ২টি।
প্রথমটি কিনিয়োনেসের। ২২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ডান পায়ের জোরাল শটের দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন মেক্সিকো উইঙ্গার। ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি মেক্সিকোর বহু যুদ্ধের সেনানী রাউল হিমিনেজের। বক্সের ভেতর ঢুকে কিনিয়োনেসের ফিরতি পাস পেয়ে দারুণ শটে গোল করেন এ স্ট্রাইকার। ইকুয়েডর সমর্থকদের কষ্ট আরও বেড়েছে যোগ করা (৯৫ মিনিট) সময়ে।
মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সময় মুখ ঢেকে কথা বলেন ইকুয়েডরের সেন্টার–ব্যাক পিয়েরো হেনকাপিয়ে। ভিএআরের হস্তক্ষেপে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।
বজ্রঝড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয় এই ম্যাচ। তাতে দারুণ জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় মেক্সিকো।
এ জয়ে আজতেকায় বিশ্বকাপে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত রইল মেক্সিকো। এবারের আসরে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার পাশাপাশি গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই জেতা তিনটি দলের একটি ছিল মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বে তারা কোনো গোলও হজম করেনি। সেই দাপট ধরে রেখেই শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ম্যাচটি জিতল স্বাগতিকরা।
মেক্সিকোর নকআউট ‘অভিশাপ’ কাটানোর এ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েন ১৭ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। ১৯৫৮ আসরে পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশের হয়ে মাঠে নামার কীর্তি গড়েন মোরা।