বরিশাল নগরীতে থ্রি-হুইলারের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে কয়েকদিন ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটেছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) আগের ভাড়াই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধভাবে পরিচালিত থ্রি-হুইলারের বিরুদ্ধে দ্রুত যৌথ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) নগর ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
সভা শেষে তিনি জানান, সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আগের ভাড়া বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন ও অবৈধভাবে চলাচলকারী থ্রি-হুইলারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া ভাড়া বৃদ্ধি কিংবা অবৈধ যান চলাচল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খুব শিগগিরই সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, নগরীতে চলাচলকারী সব থ্রি-হুইলারের লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স নবায়ন না করা বা অবৈধভাবে পরিচালিত যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ভাড়া বাড়ানোর ঘটনায় সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে রোববার সরকারি বিএম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা আটকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের পর তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা জানান, তাদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। প্রশাসনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে যাতে কোনো চালক বা মালিক ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারেন, সে জন্য মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
সমন্বয় সভায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ থ্রি-হুইলার মালিক ও চালক সমিতির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।