ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, গত ১৭ বছরে পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের কারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এখনো তহবিল সংকটে রয়েছে। তবে অর্থসংকটের মধ্যেও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর বাইশটেকী এলাকায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এ জন্য নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতাও প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের ফলে বর্তমানে ডিএনসিসি আর্থিক সংকটের মুখোমুখি।
জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি জানান, নগরীর অধিকাংশ খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ডিএনসিসির আওতাধীন প্রায় ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাইশটেকী এলাকা থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি।
নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ না হলে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও জানান, মিরপুর এলাকার দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে কয়েকটি পানির পাম্প নির্মাণের কাজ আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে শুরু হবে। তবে এ সমস্যা দীর্ঘদিনের হওয়ায় সমাধানেও কিছুটা সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত সিটি করপোরেশনকে জানানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ক্ষমতা বা পদ চিরস্থায়ী নয়; তবে তিনি সবসময় জনগণের পাশে থাকবেন এবং তাদের জন্য তাঁর দরজা খোলা থাকবে।