জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘একটা টেনডেনসি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি। প্রায় সব বক্তাই আগে কুচি কুচি করে কাটেন, এরপর বলেন—এগুলো ছাড়েন, আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটি বিউটিফুল, ওয়ান্ডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে এগিয়ে চলি।’
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে। এটি মজলুমের পার্লামেন্ট। তাই আশা করি, এই সংসদ এমন কোনো আচরণ করবে না, যা মজলুম দেশবাসীকে আহত করে। সংসদ দায়িত্বশীল আচরণ করবে, জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, জাগিয়ে তুলবে, ঐক্যবদ্ধ করবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।’
সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যারা সংসদে আছি, একসময় একই পাশে বসতাম। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত, অল্প কয়েকজন বা দু-একটি দল ছাড়া। এখন আমরা দুই অংশে বিভক্ত নই, বরং সংযুক্ত। কারণ কোনো যানবাহন এক চাকায় চলে না; চলতে হলে অন্তত দুটি চাকা লাগে।
এই সংসদেরও দুটি চাকা—একটি সরকারি দল, অন্যটি বিরোধী দল। যেকোনো একটি চাকা অকেজো হয়ে গেলে পুরো যানবাহনই থেমে যাবে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন দুটি চাকাই সচল থাকে। কিন্তু যদি সেই চাকায় পিন বা পেরেক মারা হয়, তাহলে সেটি ফুটো হয়ে যাবে। আর একটি চাকা নষ্ট হলে অন্যটিও ঠিকভাবে চলতে পারবে না।’
সংসদের অতীত চর্চার সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগই নবীন। নবীনদের অধিকার আছে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। তবে আমরা মন্দটা শিখতে চাই না, ভালোটা শিখতে চাই। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামোদ করতে গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সংসদে এমনটি হওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি তোষামোদ করার জায়গা নয়, দায়িত্ব পালনের জায়গা। এখানে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার বিষয় রয়েছে। অনেক সময় একজনকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আমরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে আঘাত করে ফেলি।’
বক্তব্যের শেষ দিকে ডা. শফিকুর রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, আ স ম আবদুর রবসহ সব শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।