দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলা ও অবৈধ দখলের কারণে রাজধানীর অধিকাংশ খাল তাদের স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা সমস্যাও দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন মুসলিম বাজার খালসহ মোট ২৯টি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানান, খালগুলো উদ্ধার করে পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ ও নগর সবুজায়নের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে ডিএনসিসি পাঁচ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, খাল পুনরুদ্ধার ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে।
সোমবার (২৯ জুন) মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলা ও অবৈধ দখলের কারণে রাজধানীর অধিকাংশ খাল কার্যকারিতা হারিয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এসব খাল পুনরুদ্ধার ও দখলমুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অংশ হিসেবে ডিএনসিসি পাঁচ লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় ছাদবাগান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাদে যেন কোথাও পানি জমে না থাকে এবং পানি জমতে পারে এমন পাত্র পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে এবং ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজে সহযোগিতা করতে হবে। ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।