রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নতুন করে পর্যালোচনা করছে সরকার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
কয়েক দিন আগে হাসপাতালটিতে অক্সিজেন সংকট ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অবহেলার অভিযোগে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করে। এরপর থেকেই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে। সরকারও হাসপাতালটিকে প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধনের জন্য কয়েক মাস সময় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকলে মন্ত্রণালয় তা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সূত্র আরও জানায়, হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এবং ত্রুটি সংশোধনের প্রতিশ্রুতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে সরকার। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ পরিশোধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালকে তিন থেকে পাঁচ মাস সময় দেওয়া হতে পারে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহল হাসপাতালটি পুরোপুরি বন্ধের পরিবর্তে জবাবদিহি নিশ্চিত করে সেবাকাজ চালু রাখার পক্ষে মত দেয়। বিষয়টি সংসদেও আলোচনায় আসে।
রবিবার সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তির ভুলের দায়ে পুরো প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধন করে সচিবের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এখন তারা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, আপিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
এদিকে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের কারণে বিপাকে পড়েছেন আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা। কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চললেও হাসপাতাল বন্ধ থাকায় ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে ভারত ও মালদ্বীপের প্রায় ২৯৫ জন শিক্ষার্থী নিজ নিজ দেশের মেডিক্যাল কাউন্সিলের বিধি অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানের হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।