কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌনে ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটটি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। লাশ গ্রহণ করতে এসে এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন উপস্থিত স্বজনরা। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় উপস্থিত হয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন এবং নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রয়োজনীয় আইনি ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সযোগে কানাইঘাটে তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। লাশগুলো এলাকায় পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় এবং পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এর আগে গত ২১ জুন কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই পাঁচ বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারান।
তারা হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের সলিম উল্লাহর ছেলে মুস্তাক আহমেদ আফনান (৩০), একই গ্রামের মৃত আহসান উল্লাহর ছেলে জুবায়ের আহমদ (৩০), আগাতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), আমরপুর গ্রামের আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল আহমদ (৩৬) এবং দক্ষিণবাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদির(২৪)।
পরে বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
তারা সবাই জীবিকার তাগিদে কাতারে কর্মরত ছিলেন এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ও নিতান্তই দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। প্রিয়জনদের এমন অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারগুলো এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।
এ বিষয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজ উদ্দিন জানান, নিহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন ও সহযোগিতার জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে লাশ দাফন ও জরুরি খরচের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।পরবর্তীতে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক পরিবারকে আরও ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।