বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য আরও একটি গর্বের মুহূর্ত। দেশের অন্যতম সফল ওপেনার তামিম ইকবাল এবার অর্জন করেছেন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি। ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান এমসিসির (মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব) আজীবন সদস্যপদ লাভ করেছেন তিনি, যা তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার, অসামান্য অবদান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তুলে ধরার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একসময় ব্যাট হাতে লর্ডসে সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে নাম তুলেছিলেন তামিম ইকবাল। প্রায় ১৬ বছর পর সেই ঐতিহাসিক মাঠেই পেলেন আরও একটি বিশেষ সম্মান।
১৭৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এমসিসি ক্রিকেটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ক্রিকেটের আইন সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডেরও মালিক এই ক্লাব।
এমসিসির তথ্য অনুযায়ী, তামিম বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ সদস্যপদ পেলেন। এর আগে ২০০৩ সালে সাবেক বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এবং ২০২৩ সালে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন।
এবার তামিমের সঙ্গে আজীবন সম্মানী সদস্যপদ পেয়েছেন ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারা, নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি সোফি ডিভাইন ও সুজি বেটস এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার মেলানি জোন্স।
২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডসে দারুণ এক সেঞ্চুরি করে তামিম নিজের নাম তুলে নিয়েছিলেন অনার্স বোর্ডে। একই সফরে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডেও করেছিলেন শতক। সেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তীতে ক্রিকেটের মর্যাদাপূর্ণ প্রকাশনা 'উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাক'-এর বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন নির্বাচিত হন তিনি।
নতুন পাঁচ আজীবন সম্মানী সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে এমসিসির প্রধান নির্বাহী ও সচিব রব লসন বলেন, পাঁচজন অসামান্য ক্রিকেটারকে আমাদের নতুন আজীবন সম্মানী সদস্য হিসেবে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। খেলার প্রতি তাদের আজীবন নিবেদনের জন্য তারা প্রত্যেকেই এই স্বীকৃতির যোগ্য। আগামী বছরগুলোতে এমসিসি সদস্য হিসেবে লর্ডসে তাদের স্বাগত জানাতে আমরা উন্মুখ হয়ে আছি।