রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি আবারও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ১ সেপ্টেম্বর নতুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
এ মামলার অপর আসামি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন।
রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন। অভিযোগ গঠন বিষয়ে এদিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও জামিনে থাকা আসামি সরদার মোশাররফ হোসেন সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে এ মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য তিন দফা তারিখ নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়।
এর আগে আদালত টিউলিপ সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করে অভিযোগ আমলে নেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ফ্ল্যাটটি দখল করেন এবং পরে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন।
এদিকে, চলতি বছরের জুলাই মাসে আসামি শাহ মো. খসরুজ্জামান তদন্ত কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে আপিল বিভাগও ওই স্থগিতাদেশ বহাল রাখায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে দুদক টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
উল্লেখ্য, টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তাঁর মা ও ভাই-বোনদের নামে তিনটি প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি দুর্নীতির মামলায় ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত ইতোমধ্যে প্রতিটি মামলায় দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।