হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনার পর ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (২৭ জুন) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থা এবং সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সংযত অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হবে না। প্রয়োজন হলে চলমান সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনা করা হবে।
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।'
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্পের কঠোর বার্তা সামনে আসে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তেহরানের হাতেই রয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, এখন থেকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থি। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে চলমান সমঝোতার সব প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যেতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের সিরিক, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।
রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার ভোরে দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সিও আইআরজিসির বরাত দিয়ে একই দাবি প্রকাশ করেছে।