গোয়াইনঘাটে ড্রেজারে বালু উত্তোলন, হুমকিতে চা-বাগান, ফসলি জমি ও কয়েকটি গ্রাম

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি

সারাদেশ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাজিপুর বালু মহালে ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

2026-06-27T20:48:17+00:00
2026-06-27T20:48:17+00:00
  শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬,
১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
সারাদেশ
গোয়াইনঘাটে ড্রেজারে বালু উত্তোলন, হুমকিতে চা-বাগান, ফসলি জমি ও কয়েকটি গ্রাম
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম 
গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাজিপুর বালু মহালে ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাজিপুর বালু মহালে ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে জাফলং চা-বাগানের খেলার মাঠ, শত শত বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়ি এবং নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছর হাজিপুর বালু মহালের ইজারা পায় হাফিজ আব্দুল্লাহর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ। ইজারা শর্ত অনুযায়ী পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের লাটি, লাবু, কালিজুরি ও দক্ষিণ প্রতাপপুর মৌজায় সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের অনুমতি থাকলেও বাস্তবে নির্ধারিত এলাকার বাইরে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিম জাফলং, গোয়াইনঘাট সদর ও মধ্য জাফলং ইউনিয়নের উত্তর প্রতাপপুর, লুনি, আমবাড়ি এবং দক্ষিণ প্রতাপপুর এলাকার পিয়াইন নদীর বিভিন্ন অংশে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। প্রতিদিন কয়েকশ বাল্কহেড ও কার্গো নৌকায় করে এসব বালু দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতাপপুর ও পাঁচহাতিখেল এলাকার পিয়াইন নদীর আনন্দখাল অংশে কয়েক মাস ধরে পেলোডার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদীতীরে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং জাফলং চা-বাগানের মালিকানাধীন তিনটি ফুটবল মাঠসহ আশপাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অতীতে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা দায়মুক্তি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দেওয়া ভিডিও ও ছবিতে রাতের আঁধারে টর্চলাইটের আলোয় শতাধিক শ্রমিককে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। এছাড়া দিনের বেলায় ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ব্যাপক আকারে বালু উত্তোলনের দৃশ্যও দেখা যায়। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন কয়েক লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন হচ্ছে, যার বাজারমূল্য দুই থেকে তিন কোটি টাকার বেশি।

এলাকাবাসী জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে দক্ষিণ প্রতাপপুর, লুনি ও হাজিপুর এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। হেলেনা বেগম, তরিক উল্লাহ, অমৃকা লাল, কুলন্দ নাথ, আব্দুল জলিল, আবুল হোসেন ও কমল নাথসহ অনেকের বাড়িঘর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এ ঘটনায় গত কয়েক বছরে জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকরভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

অভিযোগের বিষয়ে খায়রুল আমিন বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। হাজিপুর বালুমহালের ইজারাদার কীভাবে বালু উত্তোলন করছেন, সেটি তারাই বলতে পারবেন।

অন্যদিকে, মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী হাফিজ আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা ইজারা শর্ত অনুযায়ী লাটি, লাবু, কালিজুরি ও দক্ষিণ প্রতাপপুর মৌজায় সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করছি। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে খায়রুলসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেছে এবং একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: