তদন্তে বেরিয়ে এলো রামমন্দিরের দানবাক্সের টাকা চুরির অভিনব কৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের অযোধ্যার বহুল আলোচিত রামমন্দিরে দান ও অনুদান ব্যবস্থাপনায় ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে জানা গেছে, দানবাক্সের

2026-06-26T20:17:58+00:00
2026-06-26T20:17:58+00:00
  শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬,
১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
তদন্তে বেরিয়ে এলো রামমন্দিরের দানবাক্সের টাকা চুরির অভিনব কৌশল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৮:১৭ পিএম 
অযোধ্যার রামমন্দির। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের অযোধ্যার বহুল আলোচিত রামমন্দিরে দান ও অনুদান ব্যবস্থাপনায় ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে জানা গেছে, দানবাক্সের নগদ অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মী পরিকল্পিতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরার দৃষ্টি আড়াল করে টাকা আত্মসাৎ করতেন। পরে সেই অর্থ মন্দিরের টয়লেটে লুকিয়ে রেখে সুবিধাজনক সময়ে বাইরে পাচার করা হতো। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসআইটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে রামমন্দির ট্রাস্টের দুই কর্মকর্তা চম্পত রায় ও অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে মন্দিরের এক কর্মী, অর্থ গণনার কাজে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মীরাও রয়েছেন।

তদন্তে জানা গেছে, ব্যাংকে জমা হওয়া দানের অর্থের হিসাব পর্যালোচনার সময় ট্রাস্ট কর্মকর্তারা প্রথম অনিয়মের বিষয়টি লক্ষ্য করেন। সাধারণত একটি দানবাক্সে ৬ থেকে ৭ লাখ রুপি থাকার কথা থাকলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিলে অস্বাভাবিক ঘাটতি ধরা পড়ে।

সন্দেহের ভিত্তিতে অর্থ গণনা কক্ষে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করা হলে চুরির পুরো কৌশল ধরা পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একজন কর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে সিসিটিভির সামনে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার দৃশ্য আড়াল করছেন। সেই সুযোগে আরেকজন কর্মী নোটের বান্ডিল থেকে টাকা সরিয়ে নিজের পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে ফেলছেন।

এসআইটির তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্তরা প্রতিটি বান্ডিলে অতিরিক্ত নোট ঢুকিয়ে ভাউচার প্রস্তুত করতেন। পরে ব্যাংকে অর্থ পাঠানোর আগে অতিরিক্ত নোটগুলো সরিয়ে ফেললেও ভাউচারের হিসাব ঠিক থাকায় আত্মসাতের বিষয়টি সহজে ধরা পড়ত না।

তদন্তকারীদের দাবি, চুরি করা অর্থ প্রথমে মন্দিরের টয়লেটে লুকিয়ে রাখা হতো। পরে সুবিধাজনক সময়ে সেগুলো বাইরে নিয়ে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হতো।

এসআইটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে অন্তত ৭০টি চুরির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ২০২৪ সালে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই এই চক্র সক্রিয় ছিল।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ রুপি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মোট কত অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি রুপি গায়েব হওয়ার দাবি করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করতে রাজি নন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে রয়েছেন অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা ছয় কর্মী—অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে ও রামাশঙ্কর মিশ্র। এছাড়া সুবাস শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নুকেও মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই পরিচিতজনের সুপারিশে চাকরি পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব শেষে কর্মীদের দেহ তল্লাশি না করা, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার দুর্বলতা, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণে ত্রুটি এবং অর্থ গণনার নথি সংরক্ষণে অনিয়মের মতো গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে এসআইটি।

এ ছাড়া ভক্তদের দেওয়া স্বর্ণালংকার—যেমন কানের দুল, নাকফুল, চুড়ি ও নূপুর—চুরির অভিযোগও তদন্তে সামনে এসেছে।

এসআইটির ভাষ্য, এসব অনিয়মের কিছু লক্ষণ আগেই শনাক্ত হলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ পেয়েছে। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: