জুমার নামাজে খুতবা দিতে হয় কেন, শোনা ফরজ না ওয়াজিব

ভোরের ডাক ডেস্ক

ধর্ম

মুসলমানদের সাপ্তাহিক সর্ববৃহৎ জামাত হলো জুমার নামাজ, যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ খুতবা। খুতবার মাধ্যমে মুসল্লিদের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক দিকনির্দেশনা এবং

2026-06-26T12:04:12+00:00
2026-06-26T12:04:12+00:00
  শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬,
১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
ধর্ম
জুমার নামাজে খুতবা দিতে হয় কেন, শোনা ফরজ না ওয়াজিব
ভোরের ডাক ডেস্ক
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
মুসলমানদের সাপ্তাহিক সর্ববৃহৎ জামাত হলো জুমার নামাজ, যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ খুতবা। খুতবার মাধ্যমে মুসল্লিদের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক দিকনির্দেশনা এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—জুমার আগে খুতবা দেওয়ার কারণ কী এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ফরজ, নাকি ওয়াজিব? ইসলামী শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট বিধান ও ব্যাখ্যা।

পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজ বিষয়ে একটি সুরা নাজিল করা হয়েছে। সুরা জুমা। আল্লাহ সুবহানাহু তালা ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন জুমার নামাজের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর। (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)

প্রত্যেক মুসলমানের উপর জুমার নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তালা এই দিনকে মুসলমানের সাপ্তাহিক ঈদের দিন ঘোষণা করেছেন। রাসূল (সা.) বলেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর কাছে তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ)

তবে জুমার নামাজের শর্ত বা ফরজ হলো খুতবা। খুতবা ব্যতীত জুমার নামাজ হয় না। উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য খুতবা শোনা ওয়াজিব। তাই খুতবা চলাকালে নিরর্থক কাজে ব্যস্ত থাকা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন খুতবার সময় যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে ‘চুপ করো’ বলাও অনর্থক। (বুখারি, হাদিস নম্বর: ১/১২৮)।

হাদিস দ্বারা সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়, খুতবার সময় নিশ্চুপ হয়ে খুতবা শোনা ওয়াজিব ও কথাবার্তা বলা হারাম। তাই মুসল্লিদের উচিত খুতবার সময় কথাবার্তা থেকে বিরত থেকে অত্যন্ত মনোযোগী হয়ে খুতবা শোনা এবং যেসব কাজ নামাজে নিষিদ্ধ তা থেকে বিরত থাকা।

ফিকাহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফাতাওয়ায়ে শামি’তে একটি মূলনীতি উল্লেখ হয়েছে, যেসব কর্ম নামাজের মধ্যে হারাম, তা খুতবা চলাকালীন সময়ও হারাম। যেমন- কথাবার্তা বলা, পানাহার করা ইত্যাদি। (ফাতাওয়ায়ে শামি: ৩/৩৫)

প্রশ্ন হলো, জুমার নামাজে দুটি খুতবা পাঠ করতে হয় কেন। এর কয়েকটি কারণ আছে—

১. মহানবী (সা.) জুমার নামাজের জন্য দুটি খুতবা দিতেন। তাই নবীজির সুন্নত আদায়ের জন্য দুটি খুতবা দিতে হয়।

২. দুটি খুতবা দিলে নির্দিষ্ট বিষয়ের আলোচনা পরিপূর্ণ হয়। পাশাপাশি এতে খতিবের আরাম হয় এবং শ্রোতাদের স্বস্তি হয়।

৩. একদল আলেমের মতে, জুমার দুটি খুতবা দুই রাকাত নামাজের স্থলাভিষিক্ত। প্রতিদিন চার রাকাত জোহরের ফরজ নামাজ পড়তে হয়। এর বিপরীতে জুমার দিন দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়তে হয়। আর দুটি খুতবা বাকি দুই রাকাতের কিছুটা হলেও শূন্যতা পূরণ করে। তাই এই দুই খুতবাকে জুমার নামাজের অংশ বিবেচনা করা হয়। এবং কেউ বিশেষ কারণে জুমার জামাতে শরিক হতে না পারলে তাকে জোহরের চার রাকাত ফরজ পড়তে হয়। এই দিক থেকে জুমা ও জোহরের মধ্যে সাদৃশ্য আছে।


  বিষয়:   পবিত্র জুমা 


Loading...
Loading...

ধর্ম- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: