বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল ইসলামে বৈধ কি না, এ প্রশ্ন নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে নিজের বক্তব্যে বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েক ফুটবল খেলার শরিয়তগত দিক নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেছেন।
ডা. জাকির নায়েক বলেন, সাধারণভাবে এমন কোনো খেলা যা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কাজে উৎসাহিত করে না, তা ইসলামে অনুমোদিত। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ফুটবল খেলা নিজে হারাম নয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটবল যদি একজন মানুষকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে এবং ধর্মীয় বিধান পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, তাহলে এ খেলাকে হারাম বলা যায় না।
তবে পেশাদার ফুটবলকে কেন্দ্র করে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম-এর মতামত তুলে ধরেন।
শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম তার ফতোয়ায় পেশাদার ফুটবল নিয়ে কয়েকটি উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড়দের সতর রক্ষার বিষয়, জামাতে নামাজ আদায়ে ব্যাঘাত, দলাদলি ও বিরোধ সৃষ্টি, গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক সফরের সময় বিভিন্ন হারাম কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা।
তবে ডা. জাকির নায়েক মনে করেন, এসব উদ্বেগ বাস্তব হলেও সব ধরনের পেশাদার ফুটবলকে এককভাবে হারাম বলা সঠিক নয়। তার মতে, বিশ্বকাপ বা ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু প্রতিযোগিতায় এসব সমস্যা বেশি দেখা যেতে পারে, কিন্তু সব পর্যায়ের ফুটবলকে একইভাবে মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, কোনো খেলোয়াড় যদি ইসলামের বিধান মেনে চলেন, নিয়মিত নামাজ আদায় করেন, ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে অবহেলা না করেন এবং হারাম কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখেন, তাহলে ফুটবল খেলা বা এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
ডা. জাকির নায়েকের মতে, ইসলামে ফুটবল খেলার বৈধতা মূলত নির্ভর করে খেলাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ, ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের প্রতি সচেতনতা এবং শরিয়তের সীমারেখা মেনে চলার ওপর।